Chapter (অধ্যায়): অমৃতত্ব পৃষ্ঠা - ১০৫Page: 105 of 389


দেখ, যতক্ষণ না তুমি জীবাণুতে উপনীত হও। এভাবে ওই জীবাণু থেকে পূর্নতম মানুষ পর্যন্ত যেমন একটা জীবনসূত্র বিদ্যমান। এটাকেই ক্রমবিকাশ বলে এবং আমরা দেখেছি, প্রত্যেক ক্রমবিকাশের আগেই একটা ক্রমসঙ্কোচ রয়েছে। যে জীবনীশক্তি এই ছোট জীবাণু থেকে আরম্ভ করে ধীরে ধীরে পূর্ণতম মানুষ বা পৃথিবীতে আবির্ভূত ঈশ্বরাবতাররূপে ক্রমবিকশিত হয়—এই সব গুলো অবশ্যই জীবাণুতে সূক্ষ্মভাবে অবস্থান করছিল। এই সমগ্র শ্রেণিটি সেই এক জীবনেরই অভিব্যক্তি মাত্র, আর এই সমগ্র ব্যক্ত জগৎ সেই এক জীবাণুতেই অব্যক্তভাবে নিহিত ছিল। এই সমগ্র প্রাণশক্তি—এমন কি মর্ত্যে অবতীর্ণ ঈশ্বর পর্যন্ত তার মধ্যে অন্তর্নিকল্যাণ ছিলেন, অবতার-শ্রেণির মানুষ পর্যন্ত অন্তর্নিকল্যাণ ছিলেন; কেবল ধীরে ধীরে, অতি ধীরে শ্রেণির ক্রমশ অভিব্যক্তি হয়েছে মাত্র। সর্বোচ্চ চরম অভিব্যক্তি যা, তাও অবশ্যই জীবভাবে সূক্ষাকারে তার ভিতরে উপস্থিত ছিল—তা হলে যে এক শক্তি থেকে সমগ্র শ্রেণি বা শৃঙ্খলটি এসেছে, তা কার ক্রমসঙ্কোচ? সেই সর্বব্যপী প্রাণশক্তির ক্রমসঙ্কোচ আর এই যে ছোট জীবাণু নানা জটিল-যন্ত্রসমন্বিত উচ্চতম বুদ্ধিশক্তির আধাররূপ মানবাকারে অভিব্যক্ত হয়েছে, কোন‍্ বস্তু ক্রমসঙ্কুচিত হয়ে জীবাণু-আকারে অবস্থান করছিল? তা সর্বব্যাপী চৈতন্য—তাই ওই জীবাণুতে ক্রমসঙ্কুচিত হয়ে উপস্থিত ছিল। তা প্রথম থেকে পূর্ণভাবে উপস্থিত ছিল। তা যে একটু একটু করে বাড়ছে, তা নয়। বৃদ্ধির ভাব মন থেকে একেবারে দূর করে দাও। বৃদ্ধি বললেই যেমন মনে হয়, বাইরে থেকে কিছু আসছে। বৃদ্ধি মানলে অস্বীকার করতে হয়—অনন্ত সব প্রাণে অন্তর্নিকল্যাণ আছে এবং তা সব রকমের বাইরের বস্তু-নিরপেক্ষ। এই সর্বব্যাপী চৈতন্যের কখনো বৃদ্ধি হয় না, তা সব সময়ই পূর্ণভাবে উপস্থিত ছিল, কেবল এখানে অভিব্যক্ত হল মাত্র।

বিনাশের অর্থ কি? এই একটা গ্লাস রয়েছে। আমি তা মাটিতে ফেলে দিলাম, তা টুকরো হয়ে গেল। প্রশ্ন এই—গ্লাসটির কি হল? তা সূক্ষ্মরূপে পরিণত হল মাত্র। তবে বিনাশের কি অর্থ হল? স্থূলের সূক্ষ্মভাবে পরিণতি। তার উপাদান-পরমাণুগুলো একত্র হয়ে গ্লাস নামক 'কাজে' পরিণত হয়েছিল। তারা আবার তাদের কারণে চলে যায়, আর এটার নাম নাশ—কারণে ন্যায়। কাজ কি? নেই, কারণের ব্যক্তভাব। নয়তো কাজ ও কারণে স্বরূপত কোন ভেদ নেই। আবার ওই গ্লাসের কথাই ধরো। তার উপাদানগুলো এবং তার নির্মাতার ইচ্ছার সহযোগে তা উৎপন্ন। এই দুটোই তার কারণ এবং তাতে উপস্থিত। নির্মাতার ইচ্ছাশক্তি এখন তাতে কি ভাবে উপস্থিত?—সংহতিশক্তিরূপে। ওই শক্তি না থাকলে তার প্রত্যেক পরমাণু আলাদা আলাদা হয়ে যেত। তবে এখন কাজটি কি? তা কারণের সাথে অভেদ, কেবল তা আর এক রকম ধারণ করেছে মাত্র। যখন কারণ নির্দিষ্ট কালের জন্য বা নির্দিষ্ট জায়গায়র ভিতর পরিণত, ঘনীভূত ও সীমাবদ্ধ ভাবে অবস্থান করে,



Foot Note: