Chapter (অধ্যায়): অপরোক্ষানুভূতি পৃষ্ঠা - ১৪৬Page: 146 of 389
রূপ ধারণ করছে। আমি যখন অতি শিশু ছিলাম, তখন আমার মনে হত—কোচোয়ান থেকে পারলে সুখের পরাকাষ্ঠা লাভ করবো। এখন তা মনে হয় না। এখন তুমি কোন সুখ কে ধরে থাকবে? এটা আমাদের বিশেষ করে বুঝতে চেষ্টা করা উচিত।
এই কুসংস্কারই আমাদের অনেক দেরিতে ঘোচে; প্রত্যেকের সুখের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন। আমি একটা লোককে দেখেছি, সে প্রতিদিন একতাল আফিম না খেলে সুখী হয় না। সে হয়তো ভাববে, স্বর্গের মাটি সব আফিম-নির্মিত। কিন্তু আমার পক্ষে সে-স্বর্গ বড় সুবিধাজনক হবে না। আমরা আরবী কবিতায় পড়ে থাকি, স্বর্গ নানা মনোহর উদ্যানে পূর্ণ, সেখানে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হয়েছে। আমার জীবনের অধিকাংশ সময় আমি এমন এক দেশে বাস করেছি, যেখানে অত্যন্ত বেশি জল, প্রতি বছর অনেক গ্রাম এবং হাজার হাজার ব্যক্তি জলপ্লাবনে মারা যায়। অতএব আমরা স্বর্গ নিম্নদেশে নদী-প্রবাহযুক্ত উদ্যানপূর্ণ হলে চলবে না; আমার স্বর্গে অল্প স্বল্প বৃষ্টি হবে। আমাদের জীবন সম্বন্ধেও তদ্রূপ, আমাদের সুখের ধারণা ক্রমাগত বদলাচ্ছে। যুবক যদি স্বর্গের ধারণা করতে যায়, তবে তার কল্পনায় তা পরমাসুন্দরী স্ত্রীগণের দিয়ে পূর্ণ হওয়া জরুরি সেই ব্যক্তিই আবার বৃদ্ধ হলে তার আর স্ত্রীর দরকার থাকবে না। আমাদের প্রয়োজনই আমাদের স্বর্গের নির্মাতা, আর আমাদের প্রয়োজনের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্বর্গও বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। যদি আমরা এমন এক স্বর্গে যাই, যেখানে অনন্ত ইন্দ্রিয়সুখলাভ হবে, সেখানে আমাদের বিশেষ কিছু উন্নতি হবে না-যারা বিষয়ভোগকেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে মনে করে, তারাই এরকম স্বর্গ প্রার্থনা করে থাকে। এটা বাস্তবে মঙ্গলকর না হয়ে মহা অমঙ্গলকর হবে। এই কি আমাদের চরম গতি-একটু হাসিকান্না, তারপর কুকুরের মতো মৃত্যু? যখন এইসব বিষয়ভোগের প্রার্থনা কর, তখন তোমরা মানবজাতির যে কি ঘোর অমঙ্গল আশা করছ, তা জান না। বাস্তবে ওই সুখভোগের আশা করে তুমি তাই করছ, কারণ তুমি জান না, আসল আনন্দ কি। বাস্তবে, দর্শনশাস্ত্র আনন্দ বা সুখ ত্যাগ করতে উপদেশ দেয় না, আসল আনন্দ কি তাই শিক্ষা দেয়। নরওয়েবাসীদের স্বর্গ সম্বন্ধে ধারণা-তা একটা ভয়ানক যুদ্ধক্ষেত্র, সেখানে সকলে ওডিন (Odin) দেবতার সামনে উপবেশন করে থাকে-কিছু কাল পরে বন্যশূকর-শিকার আরম্ভ হয়। পরে তারা নিজেরাই যুদ্ধ করে এবং পরস্পরকে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে। কিন্তু এরকম যুদ্ধের খানিকক্ষণ পরেই কোন না কোনোরকমে এটার ক্ষতগুলো আরোগ্য হয়ে যায়—তারা তখন একটা বড় ঘরে গিয়ে সেই শূকরের মাংস পুড়িয়ে ভোজন করে ও আমোদ-প্রমোদ করতে থাকে। পরদিন আবার সেই শূকরটি বেঁচে হয়, আবার সেরকম শিকারাদি হয়ে থাকে। এ আমাদের ধারণারই মতো, তবে আমাদের ধারণাটি না হয় একটু মার্জিত। আমরা

