Chapter (অধ্যায়): অপরোক্ষানুভূতি পৃষ্ঠা - ১৪৭Page: 147 of 389
সকলেই এরকম 'শূকর' শিকার করতে ভালবাসি-আমরা এমন একজায়গায় যেতে চাই, যেখানে এই ভোগ পূর্ণমাত্রায় ক্রমাগত চলবে, যেখানে ওই নরওয়েবাসীরা যেমন কল্পনা করে-যারা স্বর্গে যায়, তারা প্রতিদিন বন্যশূকর শিকার করে তা খেয়ে থাকে, আবার পরদিন শূকরটি আবার বেঁচে ওঠে-সেরকম ঘটবে।
দর্শনশাস্ত্রের মতে, নিরপেক্ষ অপরিণামী আনন্দ বলে কিছু আছে, অতএব আমরা সাধারণত যে ওই সুখভোগ করে থাকি, তার সঙ্গে এ-সুখের কোন সম্বন্ধ নেই। আবার বেদান্তই প্রমাণ করে যে, এই জগতে যা কিছু আনন্দের আছে, তা সেই আসল আনন্দের অংশমাত্র, কারণ বাস্তবে সেই ব্রহ্মানন্দেরই অস্তিত্ব আছে। আমরা প্রতিমুহূর্তেই সেই ব্রহ্মানন্দ ভোগ করছি, কিন্তু তাকে ব্রহ্মানন্দ বলে জানি না। যেখানা দেখবে কোনরকম আনন্দ, এমন কি চোরের চুরির-কাজে যে আনন্দ, তাও বাস্তবে সেই পূর্ণানন্দ, কেবল তা কতগুলো বাইরের বস্তুর সংস্পর্শে মলিন হয়েছে। কিন্তু সেই আনন্দ উপলব্ধি করতে হলে প্রথমে আমাদেরকে সমগ্র ওই সুখভোগ ত্যাগ করতে হবে। তা ত্যাগ করলেই আসল আনন্দ লাভ হবে। প্রথমে অজ্ঞান এবং যা কিছু মিথ্যা তা ত্যাগ করতে হবে, তবেই সত্যের প্রকাশ হবে। যখন আমরা সত্যিকে দৃঢ়ভাবে ধরতে পারব, তখন প্রথমে আমরা যা কিছু ত্যাগ করেছিলাম, তাই আর এক রকম ধারণ করবে, নতুন আকারে প্রতিভাত হবে, তখন সবই—সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডই—ব্রহ্মময় হয়ে যাবে, তখন সবই উন্নত ভাব ধারণ করবে, তখন আমরা সব পদার্থকে নতুন আলোকে বুঝবো। কিন্তু প্রথমে আমাদেরকে সেসব ত্যাগ করতেই হবে; পরে সত্যের অন্তত এক বিন্দু আভাস পেলে আবার তাদেরকে গ্রহণ করবো, কিন্তু অন্যরূপে-ব্রহ্মাকারে পরিণতরূপে। অতএব আমাদেরকে ছোটখাটো সুখ দুঃখ—সব ত্যাগ করতে হবে। এগুলো একই অনুভূতির বিভিন্ন মাত্রা। 'বেদ যাকে ঘোষণা করেন, সব প্রকার তপস্যা যাকে পাওয়ার জন্য অনুষ্ঠিত হয়, যাকে লাভ করার জন্য লোকে ব্রহ্মচর্যের অনুষ্ঠান করে, আমি সংক্ষেপে তাঁর সম্বন্ধে তোমাকে বলবো—তিনি ওঁ ।'১ বেদে এই ওঁকারের অত্যন্ত মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষিত হয়েছে।
যম নচিকেতার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন মানুষের মৃত্যুর পর তার কি অবস্থা হয়?—'বিপশ্চিৎ' বা অবিলুপ্তচৈতন্য আত্মা কখনো মরেন না, কখনো জন্মানও না; ইনি কোন কিছু থেকে উৎপন্ন হন না; ইনি অজ নিত্য শাশ্বত ও পুরাণ। দেহ নষ্ট হলেও ইনি নষ্ট হন না।।'১ 'হন্তা যদি মনে করেন ,আমি কাউকেও হনন করতে পারি, অথবা হত ব্যক্তি যদি মনে করেন, আমি হত হলাম , তবে উভয়কেই সত্যি সমন্ধে অনভিজ্ঞ বুঝতে হবে। আত্মা কাউকে হত্যা করেন না অথবা নিজেও হত হন
১ কঠ উপ., ১/২/১৫

