Chapter (অধ্যায়): মানুষের যথার্থ স্বরূপ (১) পৃষ্ঠা - ১৫Page: 15 of 389
বনে গিয়ে বাস কর।’ মানুষ বলছে-‘আমি বাড়ি তৈরি করবো, প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করবো।’ সে তাই করছে। তথাকথিত প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে অবিরাম সংগ্রামই মানুষজাতির ইতিহাস এবং মানুষই অবশেষে জয়ী হয়। অন্তর্জগতে এসে দেখ, সেখানেও সেই সংগ্রাম চলেছে, এটা পশু-মানুষ ও আধ্যাত্মিক-মানুষের সংগ্রাম, আলো ও অন্ধকারের সংগ্রাম; মানুষ এখানেও বিজেতা। প্রকৃতির মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের মুক্তির পথ করে ন্যায়।
অতএব আমরা দেখছি, এই মায়া অতিক্রম করে বৈদান্তিক দার্শনিকরা এমন কিছু জেনেছেন,যা মায়াধীন নয়; যদি আমরা সে অবস্থায় উপনীত হতে পারি, আমরাও মায়ার পারে যাব। ঈশ্বরবাদী সমস্ত ধর্মেরই এটা সাধারণ সম্পত্তি। কিন্তু বেদান্তমতে এটা ধর্মের আরম্ভমাত্র, শেষ নয়। যিনি বিশ্বের স্রষ্টা ও পাতা, যিনি মায়াধীশ, মায়া বা প্রকৃতির অধীশ্বর বলে উক্ত হয়েছেন, সেই সগুন ঈশ্বরের জ্ঞান এই বেদান্তভাবের শেষ কথা নয়। এই জ্ঞান ক্রমাগত বাড়তে থাকে। অবশেষে বৈদান্তিক দেখেন, যাকে বাইরে মনে হয়েছিল, তিনি নিজেই সেই, তিনি আসলে মনেই ছিলেন। যিনি সীমার মধ্যে নিজেকে বদ্ধ মনে করেছিলেন, তিনিই সেই মুক্ত-স্বরূপ।
মানুষের যথার্থ স্বরূপ
[লণ্ডনে দেওয়া বক্তৃতা]
মানুষ এই পঞ্চেন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতে এতটা আসক্ত যে, সহজে সে তা ছাড়তে চায় না। কিন্তু এই বাইরের জগৎকে যতদূর সত্যি বা সার বলে মনে হোক না কেন, প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন অনিচ্ছাসত্বেও জিজ্ঞাসা করতে হয়-জগৎ কি সত্যি? যে ব্যক্তি তার পঞ্চেন্দ্রিয়ের সাক্ষ্যে অবিশ্বাস করার বিন্দুমাত্রও সময় পায় না, যার জীবনের প্রতি মুহূর্তই কোন না কোনরকম বিষয়-ভোগে নিযুক্ত, মৃত্যু তারও কাছে এসে উপস্হিত হয় এবং তাকেও বাধ্য হয়ে জিজ্ঞাসা করতে হয় হয়-জগৎ কি সত্যি? এই প্রশ্নেই ধর্মের আরম্ভ এবং এটার উত্তরেই ধর্মের পরিসমাপ্তি। এমন কি প্রণালীবদ্ধ ইতিহাসেরও আগে, সুদূর অতীত কালে, সভ্যতার অস্ফুট ঊষাকালেও-সেই রহস্যময় পৌরাণিক যুগেও আমরা দেখতে পাই, এই একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়েছে : ‘জগৎ কি সত্যি?’
কবিত্বময় কঠোপনিষদের শুরুতে আমরা এই প্রশ্ন দেখতে পাই- কেউ বলেন, ‘মানুষ মরে গেলে তার আর অস্তিত্ব থাকে না’ ; আবার কেউ বলেন, ‘না, তখন তার অস্তিত্ব থাকে’। এটার মধ্যে কোন্টি সত্যি?১
১ যেয়ম্ প্রেতে বিচিকিৎসা মানুষে, অস্তীত্যেকে নায়মস্তীতি চৈকে। কঠ উপ. ১।১।২০

