Chapter (অধ্যায়): অপরোক্ষানুভূতি পৃষ্ঠা - ১৫২Page: 152 of 389


কিছু চাওয়া—কোন দোকানে গিয়ে কিছু দেখে তৃপ্তি হতে পারে না—অমনি কিছু পাওয়ার ইচ্ছা হয়, কেবল চাই—চাই—সব জিনিস চাই। সমগ্র জীবন কেবল তৃষ্ণাতুর যাচকের অবস্থা—বাসনার দুরপন্যায় তৃষ্ণা। বাসনা পূরণ করার শক্তি যে-নিয়মে বর্ধিত হয়, বাসনার শক্তি তদপেক্ষা বহুগুণ বেগে বর্ধিত হয়ে থাকে। অনন্ত জগতের সমগ্র সুখদুঃখের সমষ্টি সব সময়ই সমান। সমুদ্রে কোথাও যদি একটা ঢেউ ওঠে, আর কোথাও নিশ্চয়ই একটা গহ্বর উৎপন্ন হবে। যদি কোন মানুষের সুখ উৎপন্ন হয়, তবে নিশ্চয়ই অন্য কোন মানুষের অথবা কোন জীবজন্তুর দুঃখ উৎপন্ন হয়ে থাকে। মানুষের সংখ্যা বাড়ছে—পশুর সংখ্যা কমছে। আমরা তাদেরকে বিনাশ করে তাদের ভূমি কেড়ে নিচ্ছি;আমরা তাদের সমগ্র খাদ্যদ্রব্য কেড়ে নিয়েছি। তবে কেমন করে বলবো—সুখ ক্রমাগত বাড়ছে? বিশাল জাতি দুর্বল জাতিকে গ্রাস করছে, কিন্তু তোমরা কি মনে কর, বিশাল জাতি বেশী সুখী হবে? না, তারা আবার পরস্পরকে সংহার করবে। কিভাবে সুখের যুগ আসবে, তা তো আমি বুঝতে পারি না। এ তো প্রত্যক্ষের বিষয়। আনুমানিক বিচার দিয়েও আমি দেখতে পাই, এটা কখনোও হবার নয়।

পূর্ণতা সব সময়ই অনন্ত। আমরা বাস্তবে সেই অনন্তস্বরূপ—সেই নিজেরস্বরূপ অভিব্যক্ত করার চেষ্টা করছি মাত্র। তুমি, আমি—সকলেই সেই নিজের নিজের অনন্ত স্বরূপ অভিব্যক্তি করার চেষ্টা করছি মাত্র। এ পর্যন্ত বেশ কথা, কিন্তু এটা থেকে কয়েকজন জার্মান দার্শনিক বড় এক অদ্ভুত দার্শনিক সিদ্ধান্ত বাইরে করার চেষ্টা করেছেন—তা এই যে, এভাবে অনন্ত ক্রমশ বেশি থেকে বেশি ব্যক্ত হতে থাকবেন, যতদিন না আমরা পূর্ণ ব্যক্ত হই, যতদিন না আমরা সকলে পূর্ণমানুষ হতে পারি। পূর্ণ অভিব্যক্তির অর্থ কি? পূর্ণতার অর্থ অনন্ত, আর অভিব্যক্তির অর্থ সীমা—অতএব এটার এই তাৎপর্য দাঁড়াল যে, আমরা অসীমভাবে সসীম হব—এ-কথা তো অসম্বদ্ধ প্রলাপমাত্র। শিশুরা এ মতে সন্তুষ্ট হতে পারে; ছেলেদের সন্তুষ্ট করার জন্য এটা বেশ উপযোগী ঠিকই, কিন্তু এটাতে তাদেরকে মিথ্যাবিষে জর্জরিত করা হয়—ধর্মের পক্ষে এটা মহা অনিষ্টকর। আমাদের জানা উচিত, জগৎ এবং মানুষ—ঈশ্বরের অবনত ভাবমাত্র; তোমাদের বাইবেলেও আছে—আদম প্রথমে পূর্ণমানুষ ছিলেন, পরে ভ্রষ্ট হয়েছিলেন। এমন কোন ধর্মই না , যা শিক্ষা দেয় না যে, মানুষ পূর্বাবস্থা থেকে হীন অবস্থায় পতিত হয়েছে। আমরা পশু হয়ে পড়েছি। এখন আমরা আবার উন্নতির পথে যাচ্ছি, এই বন্ধন থেকে বাইরে হবার চেষ্টা করছি, কিন্তু আমরা কখনোও অনন্তকে এখানে অভিব্যক্ত করতে পারব না। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু দেখব—এটা অসম্ভব। এমন এক সময় আসবে, যখন আমরা দেখব যে, যতদিন আমরা ইন্দ্রিয় দিয়ে আবদ্ধ, ততদিন পূর্ণতালাভ অসম্ভব; তখন আমরা যে-দিকে এগোচ্ছিলাম, সেই দিক থেকে ফিরে মূল অবস্থা—অনন্তের দিকে যাত্রা আরম্ভ করবো।



Foot Note: