Chapter (অধ্যায়): আত্মার মুক্তস্বভাব পৃষ্ঠা - ১৫৯Page: 159 of 389
আরোপিত হয়েছে, কিন্তু তাঁর দেবভাবের কিছুতেই বিনাশ হয় না। অতি সাধু প্রকৃতিতে যেমন, অত্যন্ত পতিত ব্যক্তিতেও তেমনি তা উপস্থিত। ওই দেবস্বভাবের উদ্বোধন করতে হবে, তবেই তার কাজ থেকে থাকবে। আমাদের ওই দেবভাবকে আহ্বান করতে হবে, তবেই তা নিজে নিজেই প্রকাশিত হবে। প্রাচীনেরা ভাবতেন, চকমকি-পাথরে আগুন ঘুমিয়ে থাকে, সেই আগুনকে বাইরে আনতে হলে কেবল ইস্পাতের ঘর্ষণ জরুরি আগুন দুই খণ্ড শুষ্ক কাঠের মধ্যে বাস করে, তাকে প্রকাশ করার জন্য কেবল ঘর্ষণ জরুরি অতএব এই আগুন—এই স্বাভাবিক মুক্তভাব ও পবিত্রতা প্রত্যেক আত্মার স্বভাব, আত্মার গুণ নয়; কারণ গুণ উপার্জন করা যেতে পারে, সুতরাং তা আবার নষ্টও হতে পারে। মুক্তি বা মুক্তস্বভাব বলতে যা বোঝায়, আত্মা বলতেও তাই বোঝায়—এরকম সত্তা বা অস্তিত্ব এবং জ্ঞানও আত্মার স্বরূপ—আত্মার সাথে অভেদ। এই সৎ-চিৎ-আনন্দ আত্মার স্বভাব—আমাদের জন্মগত অধিকার; আমরা যে-সব অভিব্যক্তি দেখছি, সেগুলো আত্মার স্বরূপের বিভিন্ন প্রকাশ মাত্র—তা কখনো নিজেকে মৃদু, কখনো বা উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করছে। এমন কি, মৃত্যু বা বিনাশও সেই আসল সত্তার প্রকাশমাত্র। জন্ম মৃত্যু, ক্ষয় বৃদ্ধি, উন্নতি অবনতি—সবই সেই এক অখণ্ড সত্তার বিভিন্ন প্রকাশ মাত্র। এরকম আমাদর সাধারণ জ্ঞানও—তা বিদ্যা বা অবিদ্যা যেরূপেই প্রকাশিত হোক না, সেই চিৎ-এর—জ্ঞানস্বরূপেরই প্রকাশ মাত্র; তাদের বিভিন্নতা প্রকারগত নয়, পরিমাণগত। ছোট কীট, যা তোমার পায়ের কাছে বেড়াচ্ছে, তার জ্ঞান এবং স্বর্গের শ্রেষ্ঠ দেবতার জ্ঞানে পার্থক্য প্রকারগত নয়, পরিমাণগত। এই কারণে বৈদান্তিক মনীষিদের নির্ভয়ে বলেন যে, আমাদের জীবনে আমরা যে-সব সুখভোগ করি, এমন কি অতি ঘৃণিত সুখ পর্যন্ত আত্মার স্বরূপ সেই এক ব্রহ্মানন্দের প্রকাশমাত্র।
এই ভাবটিই বেদান্তের সর্বপ্রধান ভাব বলে মনে হয়; আর আমি আগেই বলেছি, আমার মনে হয়, সব ধর্মেরই এই মত। আমি এমন কোন ধর্মের কথা জানি না, যার মূলে এই ভাব না। সব ধর্মের ভিতরেই এই সার্বভৌম ভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বাইবেলের কথা ধরো—তাতে রূপকভাবে বর্ণিত আছে, প্রথম মানুষ আদম অতি পবিত্র ছিলেন, অবশেষে পাপকাজ দিয়ে তাঁর ওই পবিত্রতা নষ্ট হল। এই রূপক-বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয়, ওই গ্রন্থলেখক বিশ্বাস করতেন যে, আদিম মানুষের—অথবা তাঁরা তা যে ভাবেই বর্ণনা করুন না কেন—অথবা আসল মানুষের স্বরূপ প্রথম থেকেই পূর্ণ ছিল। আমরা যে-সব দুর্বলতা দেখছি, আমরা যে-সব অপবিত্রতা দেখছি, সেগুলো তার উপর আরোপিত আবরণ বা উপাধিমাত্র এবং খৃষ্টধর্মেরই পরবর্তী ইতিহাস এটা দেখাচ্ছে—খৃষ্টানরা সেই আগে অবস্থা আবার লাভ করার সম্ভাবনায়, শুধু তাই নয়, তার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস করেন। পুরনো ও নতুন টেস্টামেন্ট নিয়ে সমগ্র বাইবেলেরও এই ইতিহাস। মুসলমানদের সম্বন্ধেও এরকম। তাঁরাও আদম ও আদমের জন্মের পবিত্রতায়

