Chapter (অধ্যায়): আত্মার মুক্তস্বভাব পৃষ্ঠা - ১৬০Page: 160 of 389


বিশ্বাসী, আর তাঁদের ধারণা—মহম্মদের আগমনের পর থেকে সেই লুপ্ত পবিত্রতার পুনরুদ্ধারের উপায় হয়েছে। বৌদ্ধদের সম্বন্ধেও তাই; তাঁরাও নির্বাণনামক অবস্থাবিশেষে বিশ্বাসী; তা এই দ্বৈতজগতের অতীত অবস্থা। বৈদান্তিকেরা যাকে ব্রহ্ম বলেন, ওই নির্বান অবস্থাও ঠিক তাই; আর বৌদ্ধদের সমগ্র উপদেশের মর্ম এই- সেই বিনষ্ট নির্বান-অবস্থা আবার লাভ করতে হবে। এভাবে দেখা যাচ্ছে, সব ধর্মেই এই এক তত্ত্ব পাওয়া যাচ্ছে—যা তোমার নয়, তা তুমি কখনো পেতে পার না। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কারও কাছে তুমি ঋণী নও। তুমি তোমার নিজের জন্মগত অধিকারই প্রার্থনা করবে। একজন প্রধান বৈদান্তিক আচার্য এই ভাবটি তাঁর নিজেরকৃত কোন গ্রন্থের নামপ্রদানচ্ছলে বড় সুন্দরভাবে ব্যক্ত করেছেন। গ্রন্থখানার নাম 'স্বারাজ্যসিদ্ধি' অর্থাৎ আমার নিজের রাজ্য, যা হারিয়েছিল, তার পুনঃপ্রাপ্তি। সেই রাজ্য আমাদের; আমরা তা হারিয়েছি, আমাদেরকে আবার তা লাভ করতে হবে। তবে মায়াবাদী বলেন, এই রাজ্যনাশ একটা ভুলমাত্র, তুমি কখনোও রাজ্যভ্রস্ট হও না—এই মাত্র পার্থক্য।

যদিও সব ধর্মপ্রণালীই এই বিষয়ে একমত যে, আমাদের যে রাজ্য ছিল, তা আমরা হারিয়ে ফেলেছি, তবুও তাঁরা তা ফিরে পাওয়ার উপায় সম্বন্ধে বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে থাকেন। কেউ বলেন, বিশেষ কতগুলো ক্রিয়াকলাপ করে প্রতিমাদির পূজা-অর্চনা করলে এবং নিজে কোন বিশেষ নিয়মে জীবনযাপন করলে সেই রাজ্যের উদ্ধার হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলেন, 'প্রকৃতির অতীত কোন পুরুষের সামনে তুমি যদি পতিত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবে তুমি সেই রাজ্য ফিরে পাবে।' আবার কেউ কেউ বলেন, 'তুমি যদি এরকম পুরুষকে সর্বান্তকরণে ভালবাসতে পারো, তবে তুমি ওই রাজ্য পুনঃপ্রাপ্ত হবে।' উপনিষদে এ বিভিন্ন রকমের উপদেশই পাওয়া যায়। ক্রমশ যত তোমাদেরকে উপনিষদ বোঝাব, ততই এটা বুঝতে থাকবে। কিন্তু সবশ্রেষ্ঠ শেষ উপদেশ এই: কান্নার কিছুমাত্র প্রয়োজন না। তোমাদের এসব ক্রিয়াকলাপের কিছুমাত্র প্রয়োজন না, কি করে রাজ্য পুনঃপ্রাপ্ত হবে, সে চিন্তারও তোমাদের কিছুমাত্র দরকার না, কারণ তোমাদের রাজ্য কখনো নষ্ট হয়নি। যা তোমরা কখনোই হারাওনি, তা পাওয়ার জন্য আবার চেষ্টা করবে কি? তোমরা স্বভাবত মুক্ত, তোমরা স্বভাবত শুদ্ধস্বভাব। যদি তোমরা নিজেদেরকে মুক্ত বলে ভাবতে পারো, তোমরা এই মুহূর্তেই মুক্ত হয়ে যাবে; আর যদি নিজেদের বদ্ধ বলে বিবেচনাই কর, তবে বদ্ধই থাকবে। শুধু তাই নয়; এইবার যা বলবো, তা আমাকে অতি সাহসের সাথে বলতে হবে—এইসব বক্তৃতা আরম্ভ করার আগেই তোমাদেরকে সেকথা বলেছি। এটা শুনে তোমাদের ভয় হতে পারে, কিন্তু তোমরা যতই চিন্তা করবে এবং প্রাণে প্রাণে অনুভব করবে, ততই দেখবে আমার কথা সত্যি কিনা। মনে কর, মুক্ত ভাব তোমাদের স্বভাবসিদ্ধ নয়; তবে তোমরা কোনোরকমেই মুক্ত



Foot Note: