Chapter (অধ্যায়): কর্মজীবনে বেদান্ত (তৃতীয় প্রস্তাব) পৃষ্ঠা - ১৯৭Page: 197 of 389


থেকে সত্যে, নিম্নতর সত্য থেকে উচ্চতর সত্যে উঠতে থাকে। অন্ধকার বললে বুঝতে হবে—অল্প আলো; মন্দ বললে বুঝতে হবে—অল্প ভাল; অপবিত্রতা বললে বুঝতে হবে—অল্প পবিত্রতা। অতএব সত্য-ধারণার এটাও একটি দিক যে, অন্যকে প্রেম ও সহানুভূতির চোখে দেখতে হবে। আমরা যে-পথ দিয়ে এসেছি, তারাও সেই পথ দিয়ে চলছে। যদি তুমি বাস্তবে মুক্ত হও, তবে তোমাকে অবশ্যই জানতে হবে—তারাও শীঘ্র বা দেরিতে মুক্ত হবে। আর যখন তুমি মুক্তই হলে, তখন তুমি অনিত্য দেখ কি করে? যদি তুমি বাস্তবে পবিত্র হও, তবে তুমি অপবিত্রতা দেখ কিভাবে? কারণ যা ভেতরে থাকে, তাই বাইরে দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের নিজেদের ভিতরে অপবিত্রতা না থাকলে বাইরে কখনই অপবিত্রতা দেখতে পেতাম না। বেদান্তে এটা সাধনার একটি দিক। আশা করি, আমরা সকলে তা জীবনে রূপায়িত করতে চেষ্টা করব। এটা অভ্যাস করবার জন্য সারা জীবন পড়ে রয়েছে, কিন্তু এই-সকল বিচার-আলোচনায় আমরা এই ফল লাভ করলাম যে, অশান্তি ও অসন্তোষের পরিবর্তে আমরা শান্তি ও সন্তোষের সাথে কাজ করব। কারণ আমরা জানলাম, সবকিছুই আমাদের ভেতরে—আমাদেরই রয়েছে, আমাদের জন্মগত অধিকার। আমাদের কাজ শুধু এই সত্য প্রকাশ করা, প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করা।

 

কর্মজীবনে বেদান্ত

তৃতীয় প্রস্তাব

[লণ্ডনে প্রদত্ত বক্তৃতা, ১৭ই নভেম্বর, ১৮৯৬]

পূর্বোক্ত (ছান্দোগ্য) উপনিষদ‍ থেকেই আমরা পাচ্ছি যে, দেবর্ষি নারদ এক সময় সনৎকুমারের কাছে গিয়ে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন। সনৎকুমার তাঁকে এক পা এক পা করে সিঁড়িতে ওঠার মত ধীরে ধীরে অবশেষে আকাশতত্ত্বে উপনীত হলেন। 'আকাশ তেজের থেকেও মহত্তর, কারণ আকাশে চন্দ্র সূর্য বিদ্যুৎ তারা—সকলেই রয়েছে। আকাশেই আমরা শুনছি, আকাশেই জীবনধারণ করে আছি, আকাশেই আমরা মরছি।'১ এখন প্রশ্ন হচ্ছে—আকাশের থেকে মহত্তর কিছু আছে কিনা? সনৎকুমার বললেন, প্রাণ আকাশ থেকেও বড়। বেদান্তমতে এই প্রাণই জীবনের মূল শক্তি। আকাশের মত এটাও একটি সর্বব্যাপী তত্ত্ব, আর আমাদের শরীরে বা অন্য কোথাও যা কিছু গতি দেখা যায়, সবই প্রাণের কার্য।



Foot Note:

১ ছান্দোগ্য উপ, ৭/১২/১