Chapter (অধ্যায়): কর্মজীবনে বেদান্ত (তৃতীয় প্রস্তাব) পৃষ্ঠা - ২০৩Page: 203 of 389


যা সত্য, বহির্জগৎ সম্বন্ধেও তাই সত্য। স্বর্গ নরক বলে বাস্তবে যদি কোন স্থান থাকে, সেগুলিও এই জগতের অন্তর্গত, সমস্ত মিলে এই এক ব্রহ্মাণ্ড হয়েছে। অতএব প্রথম কথা এই, নানা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরমানুর সমষ্টির মত এই 'এক' অখণ্ড বস্তু রয়েছে, আর আমাদর প্রত্যেকেই যেন সেই একের অংশের রূপ। ব্যক্ত-জীবভাবে আমরা যেন আলাদা হয়ে রয়েছি, কিন্তু সেই একই সত্যস্বরূপ; আর যতই আমরা নিজদেরকে তা থেকে কম আলাদা মনে করব, ততই আমাদের পক্ষে মঙ্গল। যতই আমরা ঐ সমষ্টি থেকে নিজেদের আলাদা মনে করব, ততই আমাদের দুঃখ বাড়বে। এই অদ্বৈততত্ত্ব থেকেই আমরা নীতির ভিত্তি প্রাপ্ত হলাম; আমি স্পর্ধা করে বলতে পারি, আর কোন মত থেকে আমরা কোনরকম নীতিতত্ত্ব পাই না। আমরা জানি  , নীতির প্রাচীনতম ধারণা ছিল—কোন পুরুষ অথবা কতগুলি পুরুষের ইচ্ছা। এখন আর কেউ তা মানতে প্রস্তুত নয়; কারণ তা আংশিক ব্যাখ্যা মাত্র। হিন্দুরা বলেন—এই কাজ করা উচিত নয়, কারণ বেদ তা নিষেধ করছেন, কিন্তু খ্রীষ্টান বেদের প্রমাণ স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। খ্রীষ্টান আবার বলেন—এ-কাজ করও না, ও-কাজ করও না, কারণ বাইবেলে ঐ-সকল কার্য নিষিদ্ধ। যারা বাইবেল মানে না, তারা অবশ্য এ-কথা শুনবে না। আমাদেরকে এমন এক তত্ত্ব বের করতে হবে, যা এই নানারকম ভাবের সমন্বয় করতে পারে। যেমন লক্ষ লক্ষ লোক সগুণ সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতে প্রস্তুত, সেইরকম এই জগতে সহস্র সহস্র মনীষী আছেন, যাঁদের পক্ষে ঐ ধারণা পর্যাপ্ত বলে বোধ হয় না। তারা  এর থেকে কিছু চেয়েছেন; আর যখনই ধর্মসম্প্রদায়গুলি এই মনীষীদেরকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করবার মতো উদারভাবাপন্ন হয় নি  , তখনই সমাজের উজ্জ্বলতম রত্নগুলি সংগঠিত ধর্মবিশ্বাস (organised faith) ত্যাগ করেছেন , আর বর্তমান কালে বিশেষত ইউরোপে এটা যত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আর কখনও কোথাও এরকম হয় নি  ।

মনীষীদেরকে ধর্মের ভেতর রাখতে হলে ধর্মকে অবশ্য খুব উদার থেকে হবে। ধর্ম যা কিছু বলে, সবই যুক্তি দিয়ে পরীক্ষা করা আবশ্যক। কেউই বলতে পারে না, সকল ধর্মই কেন এই এক দাবি করে থাকে যে, তারা যুক্তি দিয়ে পরীক্ষিত থেকে চায় না। বাস্তবে এর কারণ গোড়াতেই গলদ আছে। যুক্তির মানদণ্ড ছাড়া ধর্মবিষয়েও কোনরকম বিচার বা সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। কোন ধর্ম হয়তো কিছু বীভৎস ব্যাপার করতে আজ্ঞা দিল।...মনে কর, মুসলমান ধর্মের কোন আদেশের প্রতি একজন খ্রীষ্টান দোষারোপ করল। তাতে মুসলমান স্বভাবতই জিজ্ঞাসা করবে—কি করে তুমি জানলে আদেশটি ভাল কি মন্দ? তোমার ভালমন্দের ধারণা তো তোমার শাস্ত্র থেকে! আমার শাস্ত্র বলছে, 'এটা সৎকার্য।' যদি তুমি বলো, তোমার শাস্ত্র প্রাচীন, তা হলে বৌদ্ধেরা বলবেন—আমাদের শাস্ত্র আরও প্রাচীন। আবার হিন্দু বলবেন—আমার শাস্ত্র সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। অতএব



Foot Note: