Chapter (অধ্যায়): আত্মা তার বন্ধন ও মুক্তি পৃষ্ঠা - ২৩৯Page: 239 of 389


উপাদান থেকে  প্রানশক্তি অপর একটি দেহ সৃষ্টি করে, সেই দেহের বিনাশের পর আবার অপর একটি দেহ সৃষ্টি করে—এইভাবেই এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শক্তি জড়-পদার্থ ব্যাতীত চলতে পারে না। সেজন্য দেহপাতের পরেও মনের উপাদান থাকে, প্রাণ সংস্কাররূপে মনের উপর কার্য করে; এবং মন তখন অন্য স্থানে গিয়ে নূতন উপাদান থেকে  অপর একটি ঘূর্ণির সৃষ্টি করে এবং নূতন যাত্রা আরম্ভ করে; এইভাবে মন একস্থান থেকে অন্য স্থানে পরিভ্রমণ করে, যতক্ষণ না গতিবেগ শেষ হয়, ততক্ষণ চলতে থাকে; পরে পড়ে যায়, এর  গতিবেগ সমাপ্ত হয়। এইভাবে যখন মনের নাশ হবে, কোন সংস্কার না রেখে মন একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে  যাবে, তখন আমরা সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হব, কিন্তু তার পূর্ব পর্যন্ত আমরা বদ্ধই থাকব। মনের ঘূর্ণিতে সমাচ্ছন্ন আত্মা কালনা করতেই থাকবে, আমি স্থান থেকে  স্থানান্তরে নীত হচ্ছে । যখন এই ঘূর্ণি বা আবর্ত চলে  যাবে, তখন আত্মা জানতে পারবে, সে সর্বব্যাপী, সে যেখানে ইচ্ছা যেতে  পারে, সে সম্পূর্ণ রূপে মুক্ত, এবং সে যত ইচ্ছা তত দেহ-মন সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু তার পূর্ব পর্যন্ত আত্মা কেবল ঘূর্ণির সঙ্গে সঙ্গেই যেতে  পারে। এই মুক্তিই হল  লক্ষ্য—যেখানে পৌঁছাবার জন্য আমরা সকলেই অগ্রসর হচ্ছি ।

   মনে করুন, এই কক্ষে একটি 'বল' আছে এবং আমাদের প্রত্যেকের হাতেই একটি করে  লাঠি আছে। আমার সেই লাঠি দিয়ে  বলটিকে শতবার আঘাত করছি, এক স্থান থেকে  অপর স্থানে ঠেলে দিচ্ছি , যতক্ষণ না বলটি কক্ষ থেকে  বেরিয়ে  যায়। কিরূপ বেগে এবং কোন্ দিকে বলটি যাবে? কক্ষের ভেতর যে-সকল শক্তি এ যাবৎ বলটির উপর কার্য করছিল, সেগুলির দ্বারাই এটা  নিরূপিত হবে। বলটির উপর যে-সকল বিভিন্ন আঘাত করা হয়েছিল, সগুলি স্ব স্ব ফল প্রসব করবে । আমাদের প্রত্যেক মানসিক ও দৈহিক কর্মই এরূপ এক একটি আঘাত। মানব-মনও একটি 'বল'—মনকেও আঘাত করা হয়েছে । পৃথিবীর এই কক্ষে আমরা সর্বদাই এইভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছি, এবং এখান থেকে  আমাদের নিষ্ক্রমণ এই-সকল আঘাতের শক্তির উপর নির্ভর করছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই 'বলটির' গতিবেগও গতির দিক আঘাতগুলির দ্বারাই নিরূপিত হয়; তেমনি আমাদের এই জন্মের কর্মসমূহ আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন স্থির করবে ।আমাদের বর্তমান জন্ম আমাদের অতীত কর্মের ফল। একটি দৃষ্টান্ত : মনে কর, আমি তোমাকে একটি অনন্ত সীমাহীন শৃঙ্খল দিলাম—তার কড়া-গুলি পর পর একটি শ্বেত, একটি কৃষ্ণ; এর  আরম্ভ নেই , শেষও নেই । মনে কর, আমি তোমাকে সেই শৃঙ্খলটির স্বরূপ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। শৃঙ্খলটি উভয় দিক থেকে  অনন্ত অসীম বলে  প্রথমে এর আরম্ভ এবং শেষ স্থির করা তোমার পক্ষে কষ্টকর হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে জানতে পারবে—এটা  একটি শৃঙ্খল। শীঘ্রই তুমি আবিষ্কার করবে , এই অনন্ত শৃঙ্খলটি শ্বেত ও কৃষ্ণবর্ণের দুইপ্রকার অংশের পুনরাবরত্তি মাত্র, এবং এই দুইটি অংশকেই অনন্ত বার



Foot Note: