Chapter (অধ্যায়): মানুষের যথার্থ স্বরূপ (১) পৃষ্ঠা - ২৪Page: 24 of 389


হারিয়ে গেলে আমার ‘আমিত্ব’ নষ্ট হত, আমি একেবারে লোপ পেতাম! ছেলেবেলার দুই-তিন বছর আমার মনে নেই; যদি স্মৃতির উপর আমার অস্তিত্ব নির্ভর করে তা হলে ওই দুই-তিন বছর আমার অস্তিত্ব ছিল না—বলতেই হবে। তা হলে আমার জীবনের যে অংশ আমার মনে নেই, সেই সময়ে আমি বেঁচে ছিলাম না, বলতে হবে।

এটা অবশ্য ‘আমিত্ব’-সম্বন্ধীয় খুব সঙ্কীর্ণ ধারণা। আমরা এখনও ‘আমি’ নই! আমরা এই ‘আমিত্ব’—আসল ব্যক্তিত্ব-লাভের চেষ্টা করছি, তা অনন্ত ; তাই মানুষের আসল স্বরূপ। যার জীবন বিশ্বব্যাপী, তিনিই বেঁচে, আর যতই আমরা আমাদের জীবনকে শরীররূপ ছোট ছোট সীমাবদ্ধ পদার্থে কেন্দ্রীভূত করি, ততই আমরা মৃত্যুর দিকে এগোই। আমাদের জীবন যতক্ষণ সমগ্র জগতে ব্যাপ্ত থাকে, যতক্ষন তা অন্য কারোর মধ্যে ব্যাপ্ত হয়, ততক্ষনই আমরা বেঁচে, আর এই ছোট সংকীর্ণ জীবন-যাপনই মৃত্যু এবং এই জন্যই আমাদের মৃত্যুভয় দেখা দেয়। মৃত্যুভয় তখনই জয় করা যেতে পারে, যখন মানুষ উপলব্ধি করে যে, যতদিন এই জগতে একটা জীবনও রয়েছে, ততদিন সেও বেঁচে। এরকম উপলব্ধি হলে মানুষ বলতে পারে : ‘আমি সব বস্তুতে, সব দেহে উপস্থিত; সব জীবের মধ্যেই আমি উপস্থিত। আমিই এই জগৎ, সমগ্র জগৎই আমার শরীর! যতদিন একটা পরমানু রয়েছে, ততদিন আমার মৃত্যুর সম্ভাবনা কি? এইভাবেই মানুষ নির্ভীক অবস্থায় উপনীত হয়। নিয়ত-পরিবর্তনশীল ছোট ছোট বস্তুর মধ্যে অমরত্ব আছে, এ-কথা বলা বাতুলতা। একজন প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক বলেছেন, আত্মা অনন্ত, সুতরাং আত্মাই ‘আমি’ হতে পারেন। অনন্তকে ভাগ করা যেতে পারে না—অনন্তকে খণ্ড খণ্ড করা যেতে পারে না। এই এক অবিভক্ত সমষ্টিস্বরূপ অনন্ত আত্মা রয়েছেন, তিনিই মানুষের যথার্থ ‘আমি’, তিনিই ‘আসল মানুষ’। মানুষ বলে যা মনে হচ্ছে, তা শুধু ওই ‘আমি’কে ব্যক্ত জগতের ভিতর প্রকাশ করার চেষ্টার ফল মাত্র; আর আত্মাতে কখনো ‘ক্রমবিকাশ’ থাকতে পারে না। এই যে-সব পরিবর্তন ঘটছে, অসাধু সাধু হয়েছে, পশু মানুষ হয়েছে—এ সব কখনো আত্মাতে হয়নি। মনে কর, যেমন একটা যবনিকা রয়েছে; আর তার মধ্যে একটা ছোট ছিদ্র রয়েছে, তার ভিতর দিয়ে আমার সম্মুখস্থ কতগুলো—কেবল কতগুলো মুখ দেখতে পাচ্ছি। এই ছিদ্র যতই বড় হতে থাকে, ততই সামনের দৃশ্য আমার কাছে বেশি প্রকাশিত হতে থাকে, আর যখন ওই ছিদ্রটি সমগ্র যবনিকা ব্যাপ্ত করে তখন আমি তোমাদেরকে স্পষ্ট দেখতে পাই। এ জায়গায় তোমাদের কোন পরিবর্তন হয় না-তোমরা যা, তাই ছিলে। ছিদ্রেরই ক্রমবিকাশ হচ্ছিল, আর সেই সঙ্গে তোমাদের প্রকাশ হচ্ছিল। আত্মা সম্বন্ধেও এরকম। তুমি মুক্তস্বভাব ও পূর্ণই আছ। চেষ্টা করে পূর্ণত্ব পেতে হয় না। ধর্ম, ঈশ্বর বা পরকালের এই-সব ধারণা কোথা থেকে আসলে? মানুষ ‘ঈশ্বর ঈশ্বর‍‍‍ করে বেড়ায় কেন? কেন সব জাতির



Foot Note: