Chapter (অধ্যায়): পুনর্জন্ম পৃষ্ঠা - ২৫৬Page: 256 of 389


ওটাকে  অবিচারও বলা চলে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ হবে—এইরূপ মতবাদটিও সম্পূর্ণ যুক্তিহীন।

    যারা দুঃখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে, তাদের কয়জন উচ্চতর জীবনের অভিমুখে অগ্রসর হবার জন্য সংগ্রাম করে? কতজনই বা যে-অবস্থার মধ্যে জন্মলাভ করেছে, তারই মধ্যে আত্মসমর্পণ করে? যারা বাধ্য হয়ে মন্দ অবস্থার মধ্যে জন্মগ্রহণ করার জন্য অধিকতর মন্দস্বভাব এবং নীতিহীন হয়ে  উঠে, তারা কি তাদের  আজীবন নীতিহীনতার দরুন ভবিষ্যতে পুরস্কৃত হবে? সে-ক্ষেত্রে যে এখানে যত দুর্বৃত্ত হবে, ভবিষ্যতে তার পুরস্কার ততই অধিক হবে।

    সুখদুঃখভোগের সকল দায়িত্ব ওটার  ন্যায়সঙ্গত কারণের উপর, অর্থাৎ আমাদের স্বাধীন কর্মফলের উপর আরোপ না করলে মানবাত্মার মহিমা ও মুক্তভাব প্রমাণ করার এবং সংসারের এই অসাম্য ও ভয়াবহ-তার সামঞ্জস্য স্থাপন করার আর কোন উপায় নেই । শুধু তাই নয়, শূন্য থেকে আত্মার সৃষ্টি-বিষয়ে যত মতবাদই প্রচার করা হক না কেন, ওটাদের প্রত্যেকটি আমাদেরকে  অনিবার্যরূপে অদৃষ্টবাদে বা সমস্তই পূর্ব থেকে  সুনির্দিষ্ট—এইরূপ মতবাদে নিয়ে  যাবে, এবং এক করুণাময় পিতার পরিবর্তে এক বিকটদর্শন, নিষ্ঠুর এবং সদাক্রুদ্ধ ঈশ্বরকে আমাদর উপাস্যরূপে উপস্থিত করবে । অধিকন্তু শুভাশুভ-সাধনে ধর্মের যতটুকু শক্তি আছে, তার অনুধাবন করলে দেখতে পাই যে, 'আত্মা সৃষ্ট বস্তু'—এই মতবাদের সঙ্গে তারই অনুসিদ্ধান্ত—অদৃষ্টবাদ ও ঈশ্বর কর্তৃক ভাগ্যনির্ধারণ—খ্রীষ্টীয় ও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদিগের মধ্যে এই এক ভয়াবাহ ধারণার জন্য দায়ী যে, অধার্মিক ও পৌত্তলিকগণকে বিধিসঙ্গতরূপে তাদের  তরবারি দ্বারা হত্যা করা চলে, আরও এই মতবাদের ফলে যতপ্রকার নিষ্ঠুর অত্যাচার হয়েছে এবং এখনও হয়েছে সেগুলির জন্যও এই মতবাদই দায়ী।

    কিন্তু ন্যায়দর্শন-প্রণেতারা পুনর্জন্মতত্ত্বের সমর্থনে যে-যুক্তিটি বহু বার উপস্থিত করেছেন এবং যে আমাদের দৃষ্টিতে এই প্রসঙ্গের সিদ্ধান্ত বলে  মনে হয়, তা  হল  এই যে, আমাদের অভিজ্ঞতা কখনও সম্পূর্ণ বিলীন হয় না। আমাদের কার্যকলাপ(কর্ম) যদিও বাহ্যত বিলুপ্ত হয়, তথাপি অদৃষ্টরূপে বর্তমান থাকে, এবং পুনর্বার কার্যের মধ্যে প্রবৃত্তির আকারে আবির্ভূত হয়, এমন কি ছোট শিশুরাও কতকগুলি প্রবৃত্তি নিয়ে  জন্মগ্রহণ করে, যথা মৃত্যু ভয়।

    এখন যদি প্রবৃত্তিকে বারংবার অনুষ্ঠিত ক্রিয়াকলাপের ফল বলা হয়, তাহলে  যে-সকল প্রবৃত্তি নিয়ে আমরা জন্মগ্রহণ করি, তার অর্থ সেই দিক থেকে ব্যাখ্যা করতে হয়। স্পষ্টত আমর ঐগুলি এইজন্মে পাই নি , সুতরাং অতীতেই সেগুলির মূল অনুসন্ধান করতে  হবে। এখন এটা ও স্পষ্ট যে, আমাদের কতকগুলি প্রবৃত্তি মনুষ্যোচিত সচেতন প্রয়াসের ফল। এটা  যদি সত্য হয় যে, আমরা এই-সকল প্রবৃত্তি নিয়ে  জন্মগ্রহণ করেছি, তবে এটা  অবিসংবাদিতরূপে প্রমাণিত হয় অতীতের সচেতন



Foot Note: