Chapter (অধ্যায়): সুবিদিত রহস্য পৃষ্ঠা - ২৯১Page: 291 of 389


নিয়ম তুচ্ছ, কারণ সে প্রকৃতিকে দমন করতে পারে। মানুষের হৃদয়ের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা  আহা, যদি এমন কাউকেও পাওয়া যেত, যিনি নিয়মের নিগড় ভেঙে দিতে পারেন! আমরা তো সর্বদা তারই খোঁজ করছি, যিনি  নিয়ম লঙ্ঘন করতে পারেন। একটি ধাবমান ইঞ্জিন রেলপথে অগ্রসর হয়েছে , আর ওটার  আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষাকরিবার উদ্দেশ্যে একটি ক্ষুদ্র কীট সরিয়ে যাচ্ছে । তখনই আমরা বলি : ইঞ্জিনটি যত প্রকাণ্ডই হোক, ওটা জড় পদার্থ, ওটা একটি যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়; ওটা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ওটা কে নিয়ম মানিয়ে চলতে হয়; মানুষ যে দিকে চালাতে চায়, সেই দিকেই ওটাকে  চলতে হয়; ওটা কখনও নিয়মকে অতিক্রম করতে পারে না। কিন্তু কীটটি ক্ষুদ্র হলে ও নিয়ম লঙ্ঘন করবার চেষ্টা করে, নিজেকে রক্ষা করবার চেষ্টা করে। নিয়মকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করতে পারুক বা না  পারুক, নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে তার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। এটাই তার মধ্যে ভবিষ্যৎ অসীমত্ব বা ঐশী সত্তার লক্ষণ।

      নিয়মের বিরুদ্ধে স্বাধীন ইচ্ছার এই আত্মপ্রতিষ্ঠা, আত্মার এই মুক্তিপ্রবণতা সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয়। প্রত্যেক ধর্মেই ঈশ্বর বা কোন দেবতার আকারে এটা  প্রতিফলিত হয়। কিন্তু এটা  সর্বৈব বাইরের—যারা দেবতাকে কেবল বাইরেই দেখে, তাদের  জন্য। মানুষ প্রথমে নিজেকে নিতান্তই তুচ্ছ মনে করেছিল; তার ভয় হয়েছিল, সে হয়তো কোনদিনই মুক্ত থেকে  পারবে না। এইজন্য সে প্রকৃতির বাইরে এমন একজনের খোঁজ করছিল, যিনি  স্বভাবত মুক্ত। তারপর তার মনে হল, বাইরে এইরূপ অসংখ্য মুক্ত সত্তা বা দেবতা আছেন। ক্রমে মানুষ সকল দেবতাকে এক দেবাদিদেব পরমেশ্বরে মিলিত করল। কিন্তু তাতেও মানুষ তৃপ্ত থেকে  পারে নি   । যে যখন চরম সত্যের দিকে আরও অগ্রসর হল , তখন সে বুঝতে পারল যে, সে নিজে যেই হোক না কেন, যিনি সকল দেবতার দেবতা, যিনি  সকল প্রভুর প্রভু, তার  সঙ্গে তার নিজের কোন সম্বন্ধ আছে। সে বদ্ধ, হীনমতি এবং দুর্বল হলে ও পরমেশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এইভাবে মানুষের দৃষ্টি খুলল, চিন্তার উন্মেষ হল  এবং জ্ঞানের প্রসার হল । মানুষ ক্রমশ সেই পরমেশ্বরের নিকটবর্তী হতে  লাগল। অবশেষে সে বুঝল, এক সর্বশক্তিমান্ মুক্ত আত্মাকে খুঁজতে গিয়ে তার মানসপটে পরমেশ্বর ও নানা দেবতার যে দৃশ্য প্রতিভাত হয়েছে, সেই দৃশ্য তার নিজেরই সম্বন্ধে নিজভাবের প্রতিচ্ছবি মাত্র। সত্য আবিষ্কৃত হল —সে বুঝল, পরমেশ্বর নিজেরই অনুরূপ করে  মানুষকে গড়েছেন, এটাই শুধু সত্য নয়, মানুষ নিজের মতো করে  পরমেশ্বরকে গড়েছে, এটা ও সত্য।এরূপেই মানুষ স্বরূপত মুক্ত—এই বোধ জাগ্রত হল । সেই পরমেশ্বর সদা অন্তরে বিরাজমান, আমাদের নিকটতম। এতকাল আমরা তাকে বাইরে খুঁজেছিলাম, অবশেষে বুঝলাম—তিনি   আমাদের অন্তরের অন্তরে।

      গল্পে আছে, এক ব্যক্তি তার নিজের হৃৎস্পন্দনের শব্দকে গৃহের দরজায় ধাক্কা



Foot Note: