Chapter (অধ্যায়): জ্ঞানলাভের সোপানশ্রেণী পৃষ্ঠা - ২৯৬Page: 296 of 389
খাচ্ছি বা খাব, যে যে স্থানে বাস করেছি ইত্যাদি বিষয়েই আমাদের চিন্তা। আমারা প্রায় সব সময়ই এদের সম্বন্ধে চিন্তা করি অথবা কথা বলি। যিনি বেদান্তী থেকে ইচ্ছুক তাকে এই অভ্যাস অতি অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে।
পরবর্তী সাধন হল তিতিক্ষা দার্শনিক জীবন দুঃসাধ্য সাধন!—এই সাধনটি সর্বাধিক দুষ্কর। অন্যায়ের প্রতিরোধ না করা সহিষ্ণুতার চরম আদর্শ; তিতিক্ষা এটা থেকে কোন অংশে ন্যূন নয় । বিষয়টি একটু পরিষ্কারভাবে বোঝানো দরকার। বাহ্যত অন্যায়ের প্রতিরোধ না করতে পারি কিন্তু তজ্জন্য অন্তরে দুঃখবোধ হতে পারে। আমরা অত্যন্ত বিষণ্ণ বোধ করতে পারি। কোন ব্যক্তি আমার প্রতিঅত্যন্ত রূঢ় বাক্য প্রয়োগ করতে পারে, তজ্জন্য বাহ্যত তাকে ঘৃণা না করতে পারি, তার কথার প্রত্যুত্তর না দিতে পারে এবং নি জেকে সংযত করে আপাতত ক্রোধ প্রকাশ করতে না পারি, তথাপি আমার অন্তরে ক্রোধ ও ঘৃণা থাকতে পারে এবং আমি ঐ লোকটির প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে পারি। এটা আদর্শ অপ্রতিরোধ নয়। এই আদর্শানুসারে আমার মনেও কোন ঘৃণা অথবা ক্রোধের ভাব থাকা উচিত নয়, এমন কি প্রতিরোধের চিন্তাও নয়; আমার মন এত স্থির ও শান্ত থাকবে যেন কিছুই ঘটেনি । যখনই আমি সেই অবস্থায় উপনীত হই, তখনই অপ্রতিরোধ-অবস্থা প্রাপ্ত হই; এর পূর্বে নয়। দুঃখ প্রতিরোধ করবার অথবা দূর করবার চিন্তামাত্র না করে , মনের মধ্যে কোন প্রকার দুঃখময় অনুভূতি অথবা অনুশোচনা না রেখে সর্ববিধ দুঃখের যে সহন—তাই তিতিক্ষা। মনে কর, অশুভের প্রতিরোধ করলাম, ফলে গুরুতর অনিষ্টপাত হল । আমার যদি প্রতিক্ষা থাকে, তা হলে অশুভ প্রতিরোধ না করার জন্য আমার অনুশোচনা বোধ করা উচিত নয়। সেই অবস্থায় উন্নীত হলে বলা যায়, মন তিতিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হল । ভারতবাসীরা এই তিতিক্ষা অভ্যাস করবার জন্য অসাধারণ কর্ম করে থাকেন। তারা কিছু গ্রাহ্য না করে অত্যুগ্র শীত ও উষ্ণ সহ্য করেন; তারা তুষারও গ্রাহ্য করেন না, কেন না দেহ সম্বন্ধে তাদের কোনই চিন্তা থাকে না। দেহের ভাবনা দেহই করে, এটা যেন একটি বাইরের জিনিস।
অতঃপর যে সাধনের প্রয়োজন, তা শ্রদ্ধা। ধর্ম ও ঈশ্বরে প্রগাঢ় বিশ্বাস থাকা দরকার। যতক্ষণ এই বিশ্বাস না হয়, ততক্ষণ কেউ জ্ঞানী হবার উচ্চআশা পোষণ করতে পারে না। একসময় একজন মহাপুরুষ আমাকে বলে ছিলেন যে, এই জগতে দুই কোটি লোকের মধ্যে একজনও ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলে ছিলেন, 'মনে কর, এই ঘরে একটি চোর রয়েছে এবং সে জানতে পারল, পাশের ঘরে রাশীকৃত সোনা আছে; ঘর দুইটের মাঝে একটি খুব পাতলা পরদা রয়েছে । আচ্ছা, সেই চোরটির কি অবস্থা হবে?' আমি উত্তর দিলাম, 'চোরটি একেবারে ঘুমাতে পারবে না; তার মস্তিষ্ক সক্রিয়ভাবে সেই সোনা হস্তগত করবার উপায় উদ্ভাবন করতে থাকবে এবং তার অন্য কোন চিন্তা থাকবে না।' তদুত্তরে তিনি বলেন,'তুমি কি বিশ্বাস কর, কোন মানুষ ঈশ্বরবিশ্বাসী হয়ে

