Chapter (অধ্যায়): জ্ঞানযোগ-প্রবেশিকা পৃষ্ঠা - ৩০৮Page: 308 of 389
কিন্তু তোমরা প্রশ্ন করতে পারো কিরূপে আমরা বুঝব যে 'ক' ও 'খ'—এই দুইটি দেশ, কাল ও কার্য-কারণ-শৃঙ্খলার বাইরে বর্তমান? সত্য কথা, কালই প্রভেদ সৃষ্টি করে থাকে, কালের অতীত হলে কোন প্রভেদ থাকে না—উভয়েই কালাতীত বলে ওটারা প্রকৃতই এক। মন যখন এই এককে বহির্জগৎরূপে প্রত্যক্ষ্য করে, তখন মন এটা কে নানা ভাবে বলে 'ক', এবং অন্তর্জগৎরূপে যখন দেখে, তখন বলে 'খ'। এই একত্ব বর্তমান রয়েছে এবং মনরূপ কাঁচের মাধ্যমেই এটা বিভিন্ন রূপে প্রত্যক্ষীভূত হয়েছে ।
পূর্ণ প্রকৃতির যে-রূপ আমাদের কাছে সর্বদা প্রতিভাত হয়েছে , তাই ঈশ্বর এবং তাই চরম সত্য।
ভেদ-রহিত সত্তাই যথার্থ পূর্ণ সত্তা—অন্য সবকিছুই নিম্নতর পর্যায়ের এবং অনিত্য।
যা ভেদ-রহিত, তা ভেদযুক্ত হয়ে কেমন করে মনের গোচরীভূত হয়? এটা এমন একটি প্রশ্ন, যা 'পাপ এবং স্বাধীন ইচ্ছার আরম্ভ কোথায়?'—এই প্রশ্নেরই অনুরূপ। প্রশ্নটি স্ববিরোধী এবং অসম্ভব, কারণ এটা তে কার্য-কারণ-সম্বন্ধ স্বীকার কর নেওয়া হয়েছে। ভেদ-রহিত অবস্থায় কোন কার্য-কারণ-সম্বন্ধ নেই । এই প্রশ্নটিতে কালনা করা হয়েছে যে, ভেদ-রহিত ও ভেদযুক্ত সত্তা একই প্রকার অবস্থার অধীন। 'কেন' এবং 'কি হেতু'—এই-সকল প্রশ্ন শুধু মনে বর্তমান। সেই আত্মা সমস্ত কার্যকারণের ঊর্ধ্বে এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র—স্বাধীন। আত্মা। আত্মারই আলোক, প্রত্যেক প্রকার মনের মধ্যে দিয়েই এই আলোক বিচ্ছুরিত হয়েছে , প্রতিটি কার্যে ঘোষণা করছে আমি মুক্ত, তথাপি প্রতি কার্যেই প্রমাণিত হয়েছে , আমি বদ্ধ। আত্মার যথার্থ স্বরূপ স্বাধীন, কিন্তু দেহ-মনের সংস্পর্শে অসিয়ে তিনি বদ্ধ হয়ে পড়েন। ইচ্ছাশক্তিতেই যথার্থ স্বরূপের প্রথম প্রকাশ, সুতরাং এই যথার্থ স্বরূপের প্রথম বন্ধনই হল ইচ্ছাশক্তি। যথার্থ স্বরূপ ও মনের যৌগিক সমবায়ই ইচ্ছাশক্তি—কোন যৌগিক সমবায়ই স্থায়ী হতে পারে না। সুতরাং বাঁচবার ইচ্ছা করলেও আমাদের মরতে হবে। অমর জীবন একটি স্ববিরোধী উক্তি, কেন না জীবন, যে একটি যৌগিক সমবায়ের ফলে উদ্ভূত, তা কখনই চিরস্থায়ী হতে পারে না। সেই সত্যস্বরূপ ভেদবিরহিত এবং চিরন্তন—সর্বদা বর্তমান। এই পূর্ণস্বরূপ—মন, চিন্তা, ইচ্ছা প্রভৃতি ত্রুটিপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে কেমন করে মিশ্রিত হল ? এটা কখনই মিশ্রিত হয় নি । তুমিই তোমার প্রকৃত সত্তা—আমাদের পূর্ববর্তী বক্তব্যের 'খ'। তোমার কখনও ইচ্ছাশক্তি ছিল না, কখনও তোমার মধ্যে পরিবর্তন হয় নি, জীব হিসাবে তোমার কখনও অস্তিত্ব ছিল না—এইগুলি ভ্রম মাত্র। তবে তোমরা বলবে এই ভ্রমাত্মক জগৎ কার উপর প্রতিষ্ঠিত? এটা ও একটি ভ্রমাত্মক প্রশ্ন। ভ্রম শুধু ভ্রমের উপর ছাড়া সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এই-সকল ভ্রমের পারে ফিরে যাবার জন্য, প্রকৃতপক্ষে মু্ক্ত হবার জন্য সকলেই সংগ্রাম করছে। তা হলে জীবনের

