Chapter (অধ্যায়): প্রশ্নোত্তরে আলোচনা পৃষ্ঠা - ৩৫২Page: 352 of 389
তারপর সে বিভিন্নমতাবলম্বী দার্শনিক ও আচার্যগণের মত শুনতে থাকবে। সে এদের মধ্যে যার মত নিজের সর্বাপেক্ষা উপযোগী বলে মনে করবে , তাকেই গ্রহণ করবে —তিনি তার গুরু হবেন, সে শিষ্য হবে। সে তাকে বলবে, 'আপনি যে দর্শন প্রচার করছেন, তাই সর্বোৎকৃষ্ট, অতএব এটা আমাকে শিখিয়ে দিন।' আমাদের মূল কথাটা এই যে, আপনার মত আমার উপযোগী হতে পারে না, আবার আমার মত আপনার উপযোগী হতে পারে না। প্রত্যেকের সাধনপথ ভিন্ন ভিন্ন। আমার কন্যার সাধনপথ এক প্রকার, আমার পুত্রের অন্য প্রকার, আমার আবার সম্পূর্ণ বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। সুতরাং প্রত্যেকেরই ইষ্ট বা নির্বাচিত পথ ভিন্ন হতে পারে—এবং এই সাধনপথের বিষয় প্রত্যেকেই নিজ নিজ অন্তরে গোপন করে থাকেন। ঐ পথের বিষয় আমি জানি ও আমার গুরু জানেন, আর কাহাকেও আমরা ওটা জানি না; কারণ আমরা লোকের সঙ্গে অনর্থক বিবাদ করতে চাই না। ওটা অপরের নিকট প্রকাশ করলে তার কোন উপকার হবে না; কারণ প্রত্যেককেই নিজ নিজ পথ বেছে নিতে হবে। এই জন্য সাধারণের নিকট কেবল সর্বজন-সম্মত দর্শন ও সাধনপ্রণালীসমূহই শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। একটা দৃষ্টান্ত দিচ্ছি —অবশ্য দৃষ্টান্তটি শুনলে হাসি পাবে । এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে হয়তো আমার উন্নতি হতে পারে। এখন ওটা আমার পক্ষে উপযোগী হলে ও আমি যদি সকলকে এক পায়ে দাঁড়াতে উপদেশ দিই, সকলে আমার কথা শুনে হাসবে। এরূপ হওযা খুব সম্ভব যে, আমি হয়তো দ্বৈতবাদী, আমার স্ত্রী অদ্বৈতবাদী। আমার শেন পুত্র ইচ্ছা করলে খ্রীষ্ট, বুদ্ধ বা মহম্মদের উপাসক হতে পারে, তিনিই তার ইষ্ট। অবশ্য তাকে জাতিগত সামাজিক নিয়ম প্রতিপালন করতেই হবে।
প্র। সকল হিন্দুই কি জাতিবিভাগে বিশ্বাসী?
উ। বাধ্য হয়ে জাতিগত নিয়ম মানতে হয়। আস্থা না থাকলেও সামাজিক নিয়ম তাদের মানতেই হয়।
প্র। এই প্রাণায়াম ও একাগ্রতার অভ্যোস কি সর্বসাধারণে করে থাকে?
উ। হাঁ, তবে কেউ কেউ অতি অল্পমাত্রই অভ্যাস করে থাকে—যতটুকু না করলে ধর্মশাস্ত্রের আদেশ লঙ্ঘন করা হয়, ততটুকুই করে থাকে। ভাতরের মন্দিরগুলি এখানকার চার্চের মতো নয়। আগামীকালই সমুদয় মন্দির অন্তর্হিত হতে পারে, লোকে ওটার একান্ত অভাববোধ করবে না। স্বর্গকাম বা পুত্রকাম হয়ে অথবা ঐরূপ অন্য কিছুর জন্য লোকে মন্দির নির্মাণ করায়। কেউ হয়তো খুব একটা বড় মন্দির প্রতিষ্ঠা করাল এবং পুজোর জন্য কয়েকজন পুরোহিত নিযুক্ত করে দিল, কিন্তু আমার সেখানে যাবার কিছুমাত্র প্রয়োজন নেই , কারণ আমার যা-কিছু পূজা-পাঠ, তা আমার ঘরেই হয়ে থাকে। প্রত্যেক বাড়িতেই আলাদা একটি ঘর থাকে, তাকে ঠাকুরঘর বা পূজাগৃহ বলে। দীক্ষাগ্রহণের পর প্রত্যেক বালক-

