Chapter (অধ্যায়): প্রশ্নোত্তরে আলোচনা পৃষ্ঠা - ৩৫৯Page: 359 of 389
সমন্ধে গ্রন্থাবলী এবং ভারত ভ্রমনকারীদের লিখিত গল্পগুলি পড়ুন; কোন অনিষ্টের প্রতিশোধ নেবার জন্য ভারতবাদীদের এখনও এইরূপ কটুবাক্য বর্ষণ করা হয়ে থাকে?
[প্র। সভ্যতা সম্বন্ধে বৈদান্তিক ধারণা কিরূপ?]
উ। আপনারা দার্শনিক, আপনাদের মতে অবশ্য একতোড়া টাকা থাকা-না-থাকা নিয়ে মানুষে মানুষে কখনও প্রভেদ হতে পারে না। এইসব কলকারখানা ও জড়বিজ্ঞানের মূল্য কি? ওদের একটি মাত্র ফল এই যে, ওটারা জ্ঞান বিস্তার করে থাকে। আপনারা অভাব বা দারিদ্র-সমস্যা পূরণ করতে পারেন নি , বরং অভাবের মাত্রা আরও বাড়িয়েছেন। কলকব্জায় কখন দারিদ্র্য-সমস্যার সমাধান হতে পারে না। ওদের দ্বারা কেবল সংগ্রামই বাড়িয়ে যায়, প্রতিযোগিতাই তীব্রতর হয়ে থাকে। জড় প্রকৃতির কি স্বতন্ত্র কোন মূল্য আছে? কোন ব্যক্তি যদি তারের মধ্যে দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চালাতে পারে, আপনারা অমনি তার স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করতে উদ্যোগী হন কেন? প্রকৃতি কি লক্ষ লক্ষ বার এই ব্যাপারে সাধন করছে না? প্রকৃতিতে কি পূর্ব থেকে ই এ-সব বিদ্যমান নেই ? ওটা পেলে আপনার বিশেষ কি লাভ হল ? ওটা তো পূর্ব থেকেই সেখানে রয়েছে । ওটার একমাত্র মূল্য এই যে, ওটা আমাদের উন্নতি সাধন করে। এই জগৎটা একটি ব্যায়মাগারের মতো; এখানে জীবাত্মা কর্ম দ্বারা উৎকর্ষ সাধন করছে, এবং এই উৎকর্ষ-সাধনের ফলেই আমরা দেবতা হই। সুতরাং কোন বিষয় ভগবানের কতটা প্রকাশতা জানাই প্রত্যেক বিষয়ের মূল্য বা সারবত্তা নির্ধারণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে ঈশ্বরত্বের এইরূপ প্রকাশই সভ্যতা।
প্র। বৌদ্ধদের কি কোন জাতিবিভাগ আছে?
উ। বৌদ্ধদের কখনই বড় বিশেষ জাতিবভাগ ছিল না, এবং ভারতে বৌদ্ধসংখ্যা অতি অল্প। বুদ্ধ একজন সমাজসংস্কারক ছিলেন। তথাপি আমি বৌদ্ধ দেশসমূহে দেখেছি, সেখানে জাতিবিভাগ সৃষ্টি করবার জন্য প্রবল চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু ঐ চেষ্টা সফল হয় নি। বৌদ্ধদের জাতিবিভাগ কার্যত কিছুই নয়, কিন্তু তারা মনে মনে নিজেদের উচ্চ জাতি বলে গর্ব করে থাকে।
বুদ্ধ অন্যতম বেদান্তবাদী সন্ন্যাসী ছিলেন। তিনি একটি নূতন সম্প্রদায় স্থাপন করেছিলেন ,যেমন আজকালও অনেক নতুন সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। যে-সব ভাব এখন বৌদ্ধধর্ম বলে অভিহিত, সেগুলি তার নিজের নয়। সেগুলি অতি প্রাচীন। তিনি একজন মহাপুরুষ ছিলেন, এবং ভাবগুলির মধ্যে শক্তি সঞ্চার করেছিলেন। বৌদ্ধধর্মের নূতনত্ব ওটার সামাজিক ভাগ। ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়েরাই চিরদিন আমাদের আচার্যের আসন অধিকার করে এসেছেন; অধিকাংশ উপনিষদই ক্ষত্রিয়গণের লেখা এবং বেদের কর্মকাণ্ড ব্রাহ্মণদের কীর্তি। সমগ্র ভারতে আমাদের যে-সকল বড় বড় আচার্য হয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ক্ষত্রিয় ছিলেন; তাদের উপদেশও উদার ও সর্বজনীন, কিন্তু দুইজন ছাড়া ব্রাহ্মণ আচার্যগণের মধ্যে সকলেই অনুদার

