Chapter (অধ্যায়): দর্শন ও দার্শনিক-পরিচিতি পৃষ্ঠা - ৩৮৪Page: 384 of 389


প্রাচ্য বা ভারতীয় দর্শন প্রধান দুই ভাগ—বৈদিক (ষড়্ দর্শন) ও অবৈদিক

(নাস্তিক দর্শন); দুইটিই এখানে সংক্ষেপে আলোচিত হল ।

    ষড়্‌দর্শনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, পূর্ব মীমাংসা ও বেদান্ত (উত্তরমীমাংসা)—ভারতীয় দর্শনের এই ছয়টি দর্শনকে একত্র ষড়্‌দর্শন নামে অভিহিত করা হয়ে  থাকে। এই ছয়টি দর্শনের প্রত্যেকটিই আস্তিক অর্থাৎ এগুলিতে বেদের প্রামান্য স্বীকৃত হয়েছে।

   (১) ন্যায় ও বৈশেষিক: ন্যায়দর্শন ও বৈশেষিক দর্শন এই উভয় দর্শনকে একত্রে ন্যায়-বৈশেষিক বলা হয়ে থাকে। ন্যায়দর্শনের প্রণেতা মহর্ষি গৌতম এবং বৈশেষিক দর্শনের প্রণেতা কণাদ।

    ন্যায়দর্শনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গৌতম-প্রণীত 'ন্যায়সূত্র' এবং বৈশেষিক দর্শনের—কণাদের বৈশেষিক-সূত্র। বাৎস্যায়ন ন্যায়সূত্রের ভাষ্য রচনা করেছেন (চতুর্থ শতক)। বৈশেষিক সূত্রের ব্যাখ্যা না করে ও প্রশস্তপাদ ভাষ্য রচনা করেছেন (পঞ্চম শতক)। এটা  ব্যাতীত ন্যায়-বৈশেষিক দর্শনের প্রকরণ-গ্রন্থ হিসাবে বিশ্বনাথ ন্যায়পঞ্চাননের 'ভাষা-পরিচ্ছেদ' পাওয়া যায়। ন্যায়দর্শনকে ভিত্তি করে  রচিত উদয়নের 'কুসুমাঞ্জলি' অতি প্রাচীন এবং বিশেষ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

    বৈশেষিক-দর্শন ন্যায়দর্শন অপেক্ষা প্রাচীন এবং এই দুইটি পৃথকরূপেই রচিত হয়েছিল। কিন্তু উভয়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় এক হওয়ায় পরবর্তী কালে এরা একত্র আলোচিত হয়েছে। এই দুইটি দর্শনই বস্তুতন্ত্রবাদী। আবার এই দুইটি দর্শনি  বহুতত্ত্ববাদ স্বীকৃত। বৈশেষিক দর্শনে সপ্ত পদার্থ এবং পরমাণুবাদের সাহায্যে সমগ্র জগৎসৃষ্টির ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং এটা  ন্যায়দর্শনেও স্বীকৃত হয়েছে।

    ন্যায়দর্শনের বৈশিষ্ট্য এই যে, প্রমাণভাগই এটা তে মুখ্যস্থান লাভ করেছে। ন্যায় ও বৈশেষিক এই উভয় দর্শনি  ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকৃত ও প্রমাণিত হয়েছে। 'ন্যায়' অর্থে আমরা যুক্তিতর্ক বুঝিয়ে থাকি। বিচার-বিশ্লেষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে এই দর্শনের নাম 'ন্যায়দর্শন'।

   'বৈশেষিক' শব্দটি 'বিশেষ' থেকে উদ্ভুত। বিশেষ অর্থে নিত্য দ্রব্যসমূহের পরস্পর-ভেদক এক নিত্যপদার্থ বোঝায়। বৈশেষিক দর্শনে আমরা দেখতে পাই, সমগ্র বিশ্বের মূল তত্ত্ব হিসাবে ঐক্য অপেক্ষা বৈচিত্র্যের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 'বিশেষ' পদার্থ স্বীকার করা হয় বলে এই দর্শনকে বৈশেষিক দর্শন বলা হয়।

    (২) সাংখ্য ও যোগ: সাংখ্য দর্শনের প্রণেতা মহর্ষি কপিল এবং যোগদর্শনের প্রণেতা পতঞ্জলি। সাংখ্যদর্শনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'সাংখ্যকারিকা' এবং কপিলের 'সাংখ্যসূত্র'। যোগদর্শনের পতঞ্জলি-কৃত 'যোগসূত্র' বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এটা ব্যাতীত ব্যাস-কৃত 'যোগ-ভাষ্য' এবং বিজ্ঞানভিক্ষু-কৃত 'যোগ-বার্তিক', বাচস্পতি-কৃত 'তত্ত্ববৈশারদী' উল্লেখযোগ্য।



Foot Note: