Chapter (অধ্যায়): মায়া ও মুক্তি পৃষ্ঠা - ৬৩Page: 63 of 389


বলো, কারণ সংসারে থাকবার, জীবন ধারণ করার এটাই একমাত্র উপায়’—যারা এ-কথা বলেন, তাঁদেরকেও বাধ্য হয়ে অবশেষে সব চেষ্টা ছেড়ে দিতে হয়। এটাকেই অবশ্য পাকা সাংসারিক জ্ঞান বলে, আর এই ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই জ্ঞান যত প্রচলিত, কোনোকালে এতটা ছিল না; তার কারণ এই— লোক এখন যেমন তীব্র আঘাত পেয়ে থাকে, কোন কালে এত তীব্র আঘাত পেত না, প্রতিদ্বন্দিতাও কখনো এত তীব্র ছিল না; মানুষ এখন তার ভাইয়ের প্রতি যত নিষ্ঠুর, তত নিষ্ঠুর কখনো ছিল না, আর এই জন্যই এখন এই সান্ত্বনা দেওয়া হয়ে থাকে, উপস্থিতকালে এই উপদেশই বেশি পরিমাণে দেওয়া হয়ে থাকে, কিন্তু এই উপদেশে এখন কোন ফল হয় না, কোনকালেই হয় না। গলিত শব কে কতগুলো ফুল চাপা দিয়ে রাখা যায় না—এটা সম্ভব নয়; একদিন ওই ফুল গুলো সব উড়ে যাবে, তখন সেই শব পূর্বাপেক্ষা বীভৎসরূপে দেখা দেবে। আমাদের সমগ্র জীবনও এই প্রকার। আমরা আমাদের পুরনো পচা ঘা সোনার আচ্ছাদনে মুড়ে রাখার চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু একদিন আসবে যখন সেই সোনার পাত খসে পড়বে আর সেই ক্ষত অতি বীভৎসভাবে প্রকাশিত হবে।

তবে কি কোনই আশা নেই? এ-কথা সত্যি যে, আমরা সকলেই মায়ার দাস, আমরা মায়াতেই জন্মায়ছি, মায়াতেই আমরা বেঁচে। তবে কি কোন উপায় নেই, কোন আশা নেই? আমরা যে সকলেই অতি দুর্দশাপন্ন, এই জগৎ যে বাস্তবে একটা কারাগার, আমাদের তথাকথিত পূর্বে প্রাপ্ত মহিমাও যে একটা কারাগৃহ মাত্র, আমাদের বুদ্ধি এবং মনও যে কারাগার-স্বরূপ, তা শত শত যুগ ধরে লোকে জানে। লোকে যাই বলুক না কেন, এমন কেউই নেই, যে কোন না কোন সময়ে এটা প্রাণে প্রাণে অনুভব না করেছে। বৃদ্ধেরা এটা আরও তীব্র ভাবে অনুভব করে থাকেন, কারণ তাঁদের সারাজীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা রয়েছে; প্রকৃতির মিথ্যা ভাষা তাঁদেরকে বড় বেশী ঠকাতে পারে না। এই বন্ধন-অতিক্রমের উপায় কি? এই বন্ধনগুলোকে অতিক্রম করার কি কোন উপায় নেই? আমরা দেখছি, এই ভয়ঙ্কর ব্যাপার, এই বন্ধন আমাদের সামনে পিছনে সব জায়গায় থাকলেও এই দুঃখকষ্টের মধ্যেই, এই জগতেই—যেখানে জীবন ও মৃত্যু একার্থক– এখানেও এক মহাবাণী সব যুগে, সব দেশে, সব ব্যক্তির মনে যেমন ধ্বনিত হয়েছে : দৈব হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া। মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে।১ –আমার এই দৈবী ত্রিগুণময়ী মায়া অতি কষ্টে অতিক্রম করা যায়। যারা আমার শরণাপন্ন, তারা এই মায়া অতিক্রম করে। ‘হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত জীবদের, আমার কাছে এস, আমি তোমাদেরকে বিশ্রাম ও শান্তি দেবো’২—এই বাণীই আমাদেরকে ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষ এটা শুনেছে এবং অনন্ত যুগ ধরে শুনছে। যখন মানুষের সবই নষ্টপ্রায়



Foot Note:

১ গীতা, ৭/১৪ ২ St. Matthew, Ch. II, 28