Chapter (অধ্যায়): ব্রহ্ম ও জগৎ পৃষ্ঠা - ৭৪Page: 74 of 389


অদ্বৈতবাদের মর্ম তো এই—একটামাত্র বস্তু আছে, দুটো নেই। আবার কিন্তু বলা হয়েছে সেই অনন্ত ব্রহ্ম দেশ-কাল-নিমিত্তের আবরণের ভিতর দিয়ে নানারূপে প্রকাশ পাচ্ছেন। অতএব এখন মনে হয়েছে, দুটো বস্তু আছে—সেই অনন্ত ব্রহ্ম আর মায়া অর্থাৎ দেশ-কাল-নিমিত্তের সমষ্টি। আপাতত দুটো বস্তু আছে, এটাই যেমন স্থিরসিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে। অদ্বৈতবাদী এটার উত্তরে বলেন, বাস্তবে এটাকে দুই বলা যায় না। দুটো বস্তু থাকতে হলে ব্রহ্মের মতো—যার উপর কোন নিমিত্ত কাজ করতে পারে না—এরকম দুটো স্বতন্ত্র বস্তু থাকা জরুরি প্রথমত দেশ-কাল-নিমিত্তের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে, বলা যেতে পারে না। আমাদের মনের প্রতি পরিবর্তনের সাথে কাল পরিবর্তিত হয়েছে, সুতরাং তার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নেই। কখনো কখনো স্বপ্নে দেখা যায়, যেমন অনেক বছর জীবনধারণ করেছি—কখনো কখনো আবার মনে হয় এক মুহূর্তের মধ্যে কয়েক মাস কেটে গেল।

অতএব দেখা গেল, কাল মনের অবস্থার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করছে। দ্বিতীয়ত কালের জ্ঞান সময় সময় একেবারে অন্তর্হিত হয়, আবার অপর সময় এসে থাকে। দেশ সম্বন্ধেও এরকম। আমরা দেশের স্বরূপ জানতে পারি না। তবুও তার লক্ষণ নির্দিষ্ট করা অসম্ভব মনে হলেও তা যে রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই; তা আবার কোন পদার্থ থেকে আলাদা হয়ে থাকতে পারে না। নিমিত্ত বা কাজকারণভাব সম্বন্ধেও এরকম। এই দেশ-কাল-নিমিত্তের ভিতর এই একই বিশেষত্ব দেখছি যে, তারা অন্যান্য বস্তু থেকে পৃথকভাবে অবস্থান করতে পারে না। তোমরা শুদ্ধ ‘দেশের’ বিষয়-ভাবতে চেষ্টা কর, যাতে কোন বর্ণ নেই, যার সীমা নেই, চারিদিকের কোন বস্তুর সাথে যার কোন সংস্রব নেই। তুমি তার বিষয় চিন্তাই করতে পারবে না। তোমাকে দেশের বিষয় চিন্তা করতে হলে দুটো সীমার মধ্যস্থিত অথবা তিনটি বস্তুর মধ্যে অবস্থিত দেশের বিষয় চিন্তা করতে হবে। তবে দেখা গেল, দেশের অস্তিত্ব অন্য বস্তুর উপর নির্ভর করছে। কাল সন্বন্ধেও তদ্রুপ; শুদ্ধ কাল সম্বন্ধে তুমি কোন ধারণা করতে পার না; কালের ধারণা করতে হলে তোমাকে একটা পূর্ববর্তী আর একটা পরবর্তী ঘটনা নিতে হবে এবং কালের ধারণা দ্বারা ওই দুটোকে যোগ করতে হবে। দেশ যেমন বাইরের দুটো বস্তুর উপর নির্ভর করছে, কালও তেমনি দুটো ঘটনার উপর নির্ভর করছে। আর ‘নিমিত্ত’ বা ‘কাজকারণ’ভাবে ধারণা এই দেশকালের উপর নির্ভর করছে। ‘দেশ-কাল-নিমিত্ত’ এই সবগুলোরই ভিতর বিশেষত্ব এই যে, তাদের স্বতন্ত্র সত্তা নেই। এই চেয়ারখানা বা ওই দেয়ালটার যেভাবে অস্তিত্ব আছে ;তার তাও নেই। এরা যেমন সব বস্তুরই পিছনে ছায়ার মতো, তুমি কোনমতে তাদেরকে ধরতে পার না। তাদের তো কোন সত্তা নেই—আবার তারা যে কিছুই নয়, তাও বলতে পারা যায় না; কারণ তাদেরই ভিতর দিয়ে জগতের প্রকাশ হয়েছে। অতএব আমরা প্রথমত দেখলাম, এই দেশ-কাল-নিমিত্তের সমষ্টির অস্তিত্ব



Foot Note: