Chapter (অধ্যায়): জগৎ(১) (বহির্জগৎ) পৃষ্ঠা - ৮৪Page: 84 of 389
যদি এটা সত্যি হয় যে, প্রকৃতি সব জায়গায়ই এক রকম; যদি এটা সত্যি হয় এ পর্যন্ত কোন মানুষের জ্ঞানই এটা খণ্ডন করে না—যে, একটা ছোট বালিকণা যে-প্রণালী ও যে নিয়মে সৃষ্ট, প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড সূর্য তারা এমন কি সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডও সেই একই প্রণালীতে—একই নিয়মে সৃষ্ট; এটা যদি সত্যি হয় যে, একটা পরমাণু যে কৌশলে নির্মিত, সমগ্র জগৎও সেই কৌশলে নির্মিত; যদি এটা সত্যি হয় যে, একই নিয়ম সমগ্র জগতে প্রতিষ্ঠিত, তবে প্রাচীন বৈদিক ভাষায় আমরা বলতে পারি—'একখন্ড—মাটিকে জেনে আমরা জগতের সমস্ত মাটিকে জানতে পারি।'১ একটা ছোট উদ্ভিদ নিয়ে তার জীবন-চরিত আলোচনাই করলে আমরা ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ জানতে পারি। একটা বালিকণার গতি পর্যবেক্ষণ করলে সমগ্র জগতের রহস্য জানতে পারা যাবে। সুতরাং আমাদের আগে আলোচনার ফল সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের উপর প্রয়োগ করে প্রথমত এটাই পাচ্ছি যে, আদি ও অন্ত প্রায় সদৃশ্য। পর্বতের উৎপত্তি বালি থেকে, বালিতেই আবার তার পরিণতি; নদী বাষ্প থেকে আসে, আবার বাষ্পে যায়; উদ্ভিদ্জীবন আসে বীজ থেকে, আবার বীজেই যায়; মানুষজীবন আসে জীবাণু থেকে, আবার জীবাণুতেই ফিরে যায়। নক্ষত্রপুঞ্জ, নদী, গ্রহ-উপগ্রহ নীহারিকাময় অবস্থা থেকে এসেছে,আবার সেই নীহারিকায় ন্যায় পায়। এটা থেকেই আমরা শিখি কি? শিখি এই যে, ব্যক্ত আর্থাৎ স্থূল অবস্থা—কাজ; আর সূক্ষ্মভাব—তার কারণ। সব দর্শনের জনকস্বরূপ মহর্ষি কপিল অনেক দিন আগে প্রমাণ করেছেন, 'নাশঃ কারণলয়ঃ'।
যদি এই টেবিলটির নাশ হয় তো তা কেবল তার কারণরূপে ফিরে যায় মাত্র—সেই সূক্ষ্মরূপও পরমাণুতে ফিরে যাবে, যাদের সম্মিলনে এই টেবিল নামক পদার্থটি উৎপন্ন হয়েছিল। মানুষ যখন মরে, তখন যেসব পদার্থে তার দেহ নির্মিত, সেগুলোতেই ফিরে যায়। এই পৃথিবীর ধ্বংস হলে যে পদার্থ-সমষ্টি এটাকে এই আকার দিয়েছিল, তাতে ফিরে যাবে। এটাকেই বলে নাশ-কারণে ন্যায়। সুতরাং আমরা শিখলাম, কাজ কারণের সাথে অভেদ-ভিন্ন নয়, কারণটিই রূপ-বিশেষ ধারণ করে কাজ নামে পরিচিত হয়। যে উপাদানগুলোতে ওই টেবিলের উৎপত্তি, তাই কারণ; আর টেবিলটি কাজ, এবং ওই কারণগুলো এখানে টেবিলরূপে উপস্থিত। এই গ্লাসটি একটা কাজ-তার কতগুলো কারণ ছিল, সেই কারণগুলো এই কাজে এখনও উপস্থিত দেখছি। কাচ নামক কিছুটা জিনিস আর সেই সঙ্গে গঠনকারীর হাতের শক্তি জন্য ও উপাদান এই দুটো কারণ মিলে গ্লাস-নামক এই আকারটি হয়েছে। ওই দুই কারণই তাতে উপস্থিত। যে শক্তিটি কোন যন্ত্রের চাকায় ছিল তা সংহতিশক্তিরূপে এটাতে রয়েছে, তা না থাকলে গ্লাসের ওই ছোট ছোট খণ্ডগুলো সব খসে পড়বে এবং তার উপাদান কাচও এটাতে

